রক্ষা আভরণ ছাড়াই চাবাগানে কীট নাশক স্প্রে করে বিপদের মুখে শ্রমিকরা।

দেবজ্যোতি চ্যাটার্জী Dec 10, 2019 - Tuesday মালবাজার


সংবাদদাতা,মালবাজার,১০ডিসেম্বর।ডুয়ার্সের চাবলয়ে ছড়িয়ে রয়েছে ১৫৬ টি চাবাগান। পাশাপাশি আছে কয়েক হাজার ছোট চাবাগান।


প্রতিটি চাবাগানে বছরভর কয়েকশ লিটার কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। পাশাপাশি আগাছা নাশক স্প্রে করতে হয়। এই কাজের জন্য প্রতিটি সেট চাবাগানে প্রায় ১০০ জনের মতো স্প্রে কর্মী রয়েছে। এই স্প্রে কর্মী সারা বছর বিভিন্ন সময়ে চাবাগানে কীটনাশক ও আগাছা নাশক স্প্রে করে। চাবাগান সংক্রান্ত নির্দেশিকায় বলা আছে চাবাগান কর্তৃপক্ষ এই সব স্প্রে কর্মীদের রক্ষা আভরণ দিতে হবে। যেমন - জুতা, মাক্স, গ্লাস্প, পুষ্টিকর আহার, হাত পা ধোয়ার সাবান, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা ইত্যাদি। ডুয়ার্সের ছোট বড় চাবাগানে স্প্রে কর্মী আছে। কিন্তু চাবাগান কর্তৃপক্ষ গুলি এই সব স্প্রে কর্মীদের এই সব রক্ষা আভরণ দেয় না। চাবাগানে ঘুরতে গেলেই দেখা যায় জুতা, মাস্ক গ্লাপ্স ছারাই খালি হাতেই বিসাক্ত কীটনাশক স্প্রে করছে নামমাত্র হাত ধুয়ে সেই হাতেই খাওয়া দাওয়া করছে। ফলে শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। টিবি যক্ষা সহ নানান রোগে ভোগে। চাবাগানে কাজ করে যাওয়া এক ডাক্তার এনিয়ে জানান, এভাবে উন্মুক্ত হাত পা নাক মুখে স্প্রে করার ফলে শারীরিক ভাবে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিসাক্ত কীটনাশক স্প্রে করার বাতাসে ভেসে থাকা রেনু আকারের বিষ নাক ও মুখ দিয়ে শরীরের ভিতরে যায়। রোগ বাসা বাধে। এই কারনে দেখা যায় স্প্রে কর্মীরা অল্প বয়েসে অসুস্থ হয়ে যায়।


চা উৎপাদনের জন্য জীবনের ঝুকি নিয়ে এই বছরের পর বছর এই কাজ করে যাওয়া শ্রমিকদের নিয়ে সেরকম কোন আলোচনা হয়েছে বলে শোনা যায় নি। তবে এক প্রবীণ চাবাগানের ম্যানেজার এনিয়ে জানান, বাস্তবে শ্রমিকরা গ্লাপ্স, মাস্ক ব্যবহার করতে চায় না। এ ব্যাপারে উৎসাহ না থাকায় এভাবেই চলে আসছে।


শ্রমিক নেতারা অন্যান্য বিষয়ে আন্দোলন করলেও এই বিষয়ে নিরব থেকে যায়। ফলে স্প্রে কর্মীর যে তিমিরে ছিলো সেখানেই রয়ে গেছে।

আপনার পছন্দ

বিজ্ঞাপন

আরও খবর

বিজ্ঞাপন