বন্ধের দিন পুলিশের উপর হামলা, ভাঙচুর

বিশ্বজিৎ মন্ডল Jan 09, 2020 - Thursday মালদা


বন্ধের দিন পুলিশের উপর হামলা, ভাঙচুর , গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেফতার করলো কালিয়াচক থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার ধৃতদের ১৪ দিনের হেফাজতে নেওয়ার জন্য মালদা আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ। যদিও বুধবারের বন্ধের ঘটনার পর এখনো থমথমে রয়েছে কালিয়াচক থানার সুজাপুর এলাকা। সকাল থেকেই অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল ওই এলাকায়। এমনকি বেশ কয়েকটি স্কুল দুই পিরিয়ডের পরেই ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।  পুরো ঘটনাটি সিআইডি তদন্ত করছে বলেও জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।



পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,  ধৃতদের নাম আমানুল হক(৩৫),আবু সুফিয়ান(২১), ইমরান আলী(৩৮), আশরাফুল শেখ(২৬)মোঃমোহাম্মদ সানাউল্লাহ হক (২২),মোহাম্মদ মকিম শেখ(৩০) ও মোস্তাফিজুর রহমান(১৯)। প্রত্যেকের বাড়ি কালিয়াচক থানার সুজাপুর এলাকায়। 




উল্লেখ্য, বুধবার বনধ ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় কালিয়াচক থানার সুজাপুর এলাকা। ওই এলাকার ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে এনআরসি এবং সিএএ'র বিরোধিতায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন বন সমর্থকেরা। একাধিক পুলিশের গাড়ি পুড়ানোর অভিযোগ উঠেছে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে।ইঁট,পাথরের আঘাতে জখম হন পাঁচজন পুলিশকর্মী। জখম পুলিশকর্মীদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য সুজাপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বিক্ষোভকারীদের সামলাতে পুলিশকে প্রথমে লাঠিচার্জ করতে হয়। এরপরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস,রাবার বুলেট ছুঁড়তে হয়।



পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া জানিয়েছেন, এই গোলমালের ঘটনাযর সিসিটিভি এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে এখনো পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোলমালের ঘটনায় জড়িত বাকিদের খোঁজ চালানো হচ্ছে। তবে পুলিশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।



এদিকে পুরো ঘটনাটি নিয়ে জেলার রাজনৈতিক মহলে একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপ করতে শুরু করেছে। সুজাপুরের বিধায়ক ঈশাখান চৌধুরী জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীরা গোলমাল করে নি। পুলিশের একাংশ গাড়ি ভাঙচুর করে মানুষকে লাঠিচার্জ করে খেপিয়ে তুলেছিল। অন্যায় ভাবে নিরীহদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।



সিপিএমের জেলা সম্পাদক অম্বর মিত্র বলেন, বুধবারের বনধ্কে ঘিরে কোথাও কোনো রকম অশান্তি হয় নি । শুধুমাত্র মালদার সুজাপুরে এরকম ঘটনা ঘটেছে।  পুলিশি এই ঘটনাটি ঘটে প্ররোচনা দিয়েছিল।



তৃণমূলের জেলার কার্যকরী সভাপতি তথা ইংরেজবাজার পুরসভার ভাইস-চেয়ারম্যান বাবলা সরকার বলেন, বুধবার বনধ্ সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে । সুজাপুরের ঘটনায় কোথাও যদি পুলিশের কোন দোষ থাকে তাহলে সেটা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব । তবে বুধবারের বন্ধের নামে তান্ডব করা হয়েছে। কোথাও রেল লাইনের ধারে বোমা রাখা হয়েছে। কোথাও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।  আমরা এর তীব্র নিন্দা করছি। বুধবারের বনধ্ সফল করতে ব্যর্থ হয়েছে বিরোধী দলের ডাকা শ্রমিক সংগঠনগুলো।

সবার আগে খবর পেতে , পেইজে লাইক দিন

আপনার পছন্দ

বিজ্ঞাপন
Jishu da

আরও খবর

বিজ্ঞাপন
PMJOK
Jishu da