বানরের বাঁদরামিতে অতিষ্ঠ শিশুবাড়িবাসী

নিউজ ডেস্ক Aug 23, 2019 - Friday নিউজ রুম 135


সক্কাল সক্কাল শিশু বাড়ির মল্লিকা দাস ঢুকেছিলেন ঠাকুর ঘরে পূজো দিতে, ঠাকুরের পায়ে মাথা ঠেকিয়ে চোখ খুলতেই দেখেন পাশে বসে আছে জ্যান্ত বজরংবলি। সে সময় তার ভিমরি খাবার জোগাড়। চিৎকার করে ডাকেন বাড়ির অন্যদের। 



আওয়াজ পেয়ে ছুটে আসেন বাড়ির লোকেরা, কিন্তু ততক্ষণে বানর বাবাজি প্রসাদ নিয়ে চম্পট দেয়। একই ভাবে আরও এক গৃহবধূ ছোট তিন বছরের ছেলেকে নিয়ে সন্ধ্যা বেলায় ঘরে লোডশেডিং হওয়ায় ছাদে পাটি পেতে নিশ্চিন্তে চোখ বুজে শুয়েছিলেন। চোখ খুলতেই দেখেন ছেলের পাসে এই বানর উপর হয়ে শুয়ে আছে। ভয় কোনরকমে ছেলের মুখ চেপে ধরে পালিয়ে আসেন ছাদ থেকে।





জানা যায়, তার অত্যাচারে ঘরের থেকে বাইরে বেরোনোই দায় হয়েছে আলিপুরদুয়ার জেলার বীরপাড়া-মাদারীহাট ব্লকের শিশুবাড়ি গ্রামের বাসিন্দাদের। তার অত্যাচারে বাইরে খাবার রাখা তো দূরের কথা জামা কাপড় শুকোতে দিতেও সমস্যায় পড়েছেন তারা। যখন তখন এসে ছিঁড়ে দিচ্ছে জামা কাপড়। এর বাড়ির কাপড় নিয়ে গিয়ে ফেলছে অন্যের বাড়িতে।



 শিশুবাড়িতে মাসির বাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন কৌশিক রাউত, তিনি জানান খোলা ছাদের সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গিয়ে দেখি হঠাৎ উপস্থিত হয় বানরটি। ভয়ে থমকে দাঁড়াই সেখানেই। একটু ধাতস্থ হয়ে নিচে নামতে গেছি অমনি এক লাফে পথ আটকে নিচে এসে দাঁড়ায় সে। উপরে উঠতে গেলে আবার ওপরে এসে দাঁড়ায়। এভাবে সে আধঘন্টা আমাকে ছাদের কার্নিশে দাঁড় করিয়ে রাখে। 



ভয় দেখাতে গেলে উল্টো দাঁত খিঁচিয়ে দেয় আমাকে। সে সময় আমার নিজেকে খুব অসহায় নিরীহ মনে হচ্ছিল, কানে চিমটি দিয়ে প্রতিজ্ঞা করেছি এই বানরের অত্যাচার শেষ না হলে মাসি বাড়ি আর আসব না।



ব্যবসায়ী শহীদুল আলম বলেন, বাড়ির বেড়ালটাকে মেরেছে এই বানর। ওর অত্যাচারে এক মুহূর্তের জন্যেও দোকান ফেলে বাইরে বেরোনো যায় না। সারাক্ষণ লাঠি হাতে বসে থাকতে হয় কখন এসে কি ক্ষতি করে, কি নিয়ে যায়, কি ফেলে দেয় এই ভেবে। 



খুচরো লটারি ব্যবসায়ী লক্ষণ সরকার বলেন, দোকান নেই রাস্তায় টেবিল পেতে খুচরো লটারি বিক্রি করি। বানরটা লটারির কি বোঝে জানি না! এত খাওয়াও যায় না। সুযোগ পেলেই লন্ডভন্ড করে দেয় টেবিল, ইচ্ছে মত নিয়ে চলে যায় সাজানো লটারি গুলি। অন্য এক গৃহবধূ সুপ্রিয়া দত্ত জানান, ঘর ফাঁকা পেলে যখন তখন ঢুকে যায় ঘরে, নিয়ে যায় সমস্ত জিনিসপত্র। ঘরে ছোট বাচ্চাকে রাখতে ভয় হয়। এমনকি আমার ঘরের ছোট আয়নাটা নিয়ে গেছে কেউ না দেখলে বিশ্বাস করবে না, আমি নিজে দেখেছি গাছের মগডালে উঠে সে আয়নায় নিজের মুখ দেখছিল শয়তানটা।



জানা যায়, রেহাই পাচ্ছে না পাড়ার নেড়িরাও। পেছন থেকে অতর্কিতে আক্রমন করে লেজে টান দিয়ে এক লাফে উঠে পরছে গাছে। পাড়ায় টমি নামের এক দপটে কুকুর ছিল। সে এই বানরকে তাড়াতে চেষ্টা করায় বানর তাকে খুবই বাজে ভাবে কামড়ে দেয়। কিছুদিনের মধ্যেই সে বেঘোরে প্রাণ হারায়। হাঁস, মুরগী, বেড়াল ছানা প্রতিনিয়ত মরছে তার আক্রমণে। গোয়াল ঘরে ঢুকে গোরুকে কামড়ে দিচ্ছে এই নিয়েও সমস্যায় পড়ছেন অনেকেই। তাই তার ভয়ে সর্বদা তটস্থ প্রত্যেকে। 



স্থানীয়রা জানায়, বন দপ্তরকে বারবার বলার পর ওরা এসে বানরটিকে ধরে নিয়ে যায়। কিন্তু বন দপ্তরের কর্মীরা চলে যেতেই দেখা যায় মূর্তিমান বিভিষিকা আবার হাজির। পরে জানা যায়, অভিযুক্ত বানরটির পরিবর্তে এক নিরীহ বানর ধরে নিয়ে গেছেন বন দপ্তরের কর্মীরা।

আপনাদের মূল্যবান মতামত জানাতে কমেন্ট করুন ↴

সবার আগে খবর পেতে , পেইজে লাইক দিন

আপনার পছন্দ

বিজ্ঞাপন
PMJOK

আরও খবর

বিজ্ঞাপন
PMJOK
HS01