ছেলে ধরা ছাপিয়ে এনআরসির গুজব! বিপাকে বিজেপি

সহ সম্পাদক Sep 25, 2019 - Wednesday ডুয়ার্স 518


মাত্র কিছুদিন আগেও ডুয়ার্সের গ্রামেগঞ্জে ছেলে ধরা নিয়ে চলছিল ব্যাপক গুজব। অচেনা নাম্বার থেকে অনেকের মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপে বা টেক্সট মেসেজ আসতো, গ্রামে নাকি ঢুকেছে ছেলে ধরা! ধরে নিয়ে যাচ্ছে বাচ্চা ছেলেদের। তাদের গলা কেটে মুন্ডু দিয়ে তৈরি করবে ব্রিজ। গ্রামের সাধারণ মানুষও দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়েছিল এই ভেবে যে, সত্যিই তো হচ্ছে তৈরি হচ্ছে মহাসড়ক, নতুন করে নির্মাণ হচ্ছে বিভিন্ন সেতু। আর সেতু তৈরিতে যে মানুষের মাথা লাগে সেই গুজব ছিল আগাগোড়াই। যুগ যুগ ধরে ঠাকুমা-জেঠিমাদের থেকে অনেক ছোট ছেলেদেরকেই শুনতে হয়েছে, দুপুরবেলা ঘুরিস না বাইরে, গ্রামে ঘুরছে ছেলে ধরা! মাথা কেটে নিয়ে যাবে ব্রিজ তৈরির জন্য। আর সেই ভয়ে ছোট ছেলেটিও টোটো করে বাইরে রোদে না ঘুরে শান্ত হয়ে বসে থাকতো বাড়িতেই। কিন্তু এগুলো যে ছিল নিছকই দুষ্ট ছেলেদের বশে রাখার কৌশল। তাহলে কি সেই কথাগুলো এখনও বসে আছে প্রত্যেকের মনে? যার জন্যই কি এই ছেলে ধরার গুজব! গুজবের মাত্রা এতটাই চরমে পৌঁছেছিল যে গণপিটুনিতে ইতিমধ্যেই বহু নিরীহ মানুষের প্রাঁণ গেছে। বিশেষ করে গণপিটুনির শিকার হয়েছে মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলে ও মহিলারা। একটু খোঁজ নিলেই জানা যাবে একইভাবে ভুগছে বাংলাদেশ ছেলে ধরার গুজবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের উদ্যোগে যেমন গ্রামে গ্রামে চালানো হচ্ছে এখনও প্রচার অভিযান। তেমনই প্রশাসনের তরফ থেকে বিভিন্ন টলিউডের তারকাদের নিয়ে গুজবে না ভাসতে করা হচ্ছে বিজ্ঞাপন টেলিভিশনে। কিন্তু এই আতংক কাটতে না কাটতেই এখন এসেছে নতুন ভূত এনআরসি!



প্রত্যকের ঘরে ঘরে এখন এই এনআরসির ভূত বাসা বেঁধেছে। যার ভয়ে মানুষ ছুঁটছে প্রয়োজনীয় নথি পত্র সংগ্রহে।


নথি সংগ্রহে প্রচুর মানুষের ভীড় জমছে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে। সেখানেও আবার চালু হয়েছে দালাল চক্র, একটু টাকা খরচ করলেই সহজেই মিলছে কাগজপত্র।


বয়স্করা জমির দলিল, বার্থ সারর্টিফিকেট না পেয়ে আরও ভীত গ্রস্ত হয়ে পড়ছে। কেউ আবার জমির দলিল লুকিয়ে রাখছে আরও নিরাপদ স্থানে। কারণ চুরি হয়ে গেলেই সর্বনাশ! প্রমাণ হবে না নাগরিকত্ব। অন্যদিকে বিভিন্ন পার্টির একশ্রেণির স্থানীয় মাতব্বর ছিঁচকে নেতারা নিজেদের ফায়দা লুটতে আরও ভয় দেখাচ্ছে গরীব মানুষদের। কেউ বলছেন কাগজ নেই একদম ঘাবড়াবেন না, এনআরসি করতে দেবনা বাংলায়। আমাদের পার্টি করুন, গলা উঁচিয়ে বিরোধীতা করুন। কিস্সু হবেনা আপনার। আবার অন্য কেউ বলছেন, এনআরসি তো হবেই, জেল না খেটে অথবা দেশে থাকতে চাইলে আসুন আমাদের সাথে। আবার কিছু মিডিয়ার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। যে মৃত্যুর আসল কারন ছিল মানসিক ভারসাম্য হীনতায় ভুগে আত্মহত্যা বা শারীরিক অসুস্থতার কারনে মৃত্যু সেই মৃত্যুও সংবাদমাধ্যমে পরিবেশিত হচ্ছে এনআরসির সাথে জড়িয়ে।



আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই বলেছেন পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি হবে না তার পরও মানুষ কেন এতটা ভীত! দেখা যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও ব্লকের বিভিন্ন নেতাদের নেতৃত্বে ডুয়ার্সের বিভিন্ন জায়গায় মানুষ এনআরসির প্রতিবাদে হাঁটছে রাস্তায়। ফলে তৈরি হচ্ছে আরও বিভ্রান্তি। আবার অনেকেই বলছেন ২০২১ -এ বিজেপিকে ঠেকাতে হলে রাজ্যের হাতে এনআরসি ইস্যু এক বড় হাতিয়ার। কারণ রাজ্যের অনুমতি ছাড়া কোনভাবেই সম্ভব নয় এই রাজ্যে এনআরসি করা। সুতরাং তৃণমূলের শাসন চলাকালীন এনআরসি নিয়ে অহেতুক ভয় নেই রাজ্যবাসীর। কিন্তু ২১ শে বিজেপি এলে কি হবে সেই নিয়ে এখনই মানুষের মধ্যে তৈরী হয়েছে শঙ্কা। কারণ আসামে এনআরসি এনআরসি করে চিৎকার করে এনআরসি চালু করে যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তা প্রত্যেকেরই জানা। বিদেশী শনাক্তকরণের লিস্টে উঠে এসেছে প্রচুর পরিমাণ হিন্দু ধর্মাবলম্বীর নাম যা তাদের কখনোই কাঙ্খিত ছিল না। এমনকি যে মানুষ তিরিশ বছর ইন্ডিয়ান আর্মিতে কাজ করেছেন তাকেও প্রয়োজনীয় নথিপত্র না দেখাতে পারায় বিদেশী বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এমনই উদাহরণ রয়েছে ভুরিভুরি। এই কারনে সেখানেও এখন কোণঠাসা হয়েছে বিজেপি।



যেখানে ভরতবর্ষের অর্থনীতির করুন দশা সেখানে গত চার বছরে ছোট্ট রাজ্য আসামে এবআরসি করে বিদেশী খুঁজতে যে পরিমান টাকা খরচ করা হয়েছে তা কিন্তু সত্যিই চিন্তার। যাদের বিদেশী বলে শনাক্ত করা হল তাদের নিয়ে সরকার কি করবে সেটা নিয়েও রয়েছে প্রচুর তর্ক বিতর্ক ধোঁয়াশা।

আপনাদের মূল্যবান মতামত জানাতে কমেন্ট করুন ↴

সবার আগে খবর পেতে , পেইজে লাইক দিন

আপনার পছন্দ

বিজ্ঞাপন
PMBJK DHUPGURI

আরও খবর

বিজ্ঞাপন
PMJOK
PMBJK DHUPGURI