মহাসড়কে বেঘোরে প্রাণ হারাচ্ছে সারমেয়রা। উদ্বিগ্ন পশুপ্রেমীরা

সহ সম্পাদক ঝিলাম দেব Dec 02, 2019 - Monday ডুয়ার্স


শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি হয়ে ধূপগুড়ির রুটে এখনও চলছে মহাসড়কের কাজ। তবে ইতিমধ্যেই অনেক জায়গায় তৈরী হয়ে গেছে রাস্তা। যানযট এড়াতে খুলেও দেওয়া হয়েছে সদ্য তৈরী মসৃণ এই রাস্তা। সে রাস্তা দিয়ে দ্রুত গতিতে চলছে গাড়ি। তবে যেহেতু এখনও পুরপুরি প্রস্তুত হয়নি মহাসড়ক তাই মাঝেমধ্যেই পরিবর্তন করতে হচ্ছে লেন। রাস্তার মাঝে হঠাৎ করেই আসছে দিক পরিবর্তনের নির্দেশ। সে সব জায়গায় কে কাকে টেক্কা দিয়ে এগিয়ে যাবে সেই প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে অগোছালো হয়ে পড়ছে গাড়িগুলি।


ফলে মাঝে মধ্যেই ঘটছে বিপত্তি। লেগেই থাকছে পথ দূর্ঘটনা। প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে এই কারণে। তার ওপর মাঝে মাঝে ভাঙা রাস্তায় ধূলায় অন্ধকার হয়ে পড়ছে চারিদিক। দিনের বেলাতেও দৃশ্যমানতা কমে যাচ্ছে। এসব জায়গায় রাতের বেলায় কুয়াশায় ঢেকে পরিস্থিতি হয়ে উঠছে আরও ভয়ংকর।


প্রশস্ত এই রাস্তা পারাপার হতে গিয়ে অসাবধানতার কারনে একদিকে যেমন মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে নিজেদের আপ্টুডেট করতে না পেরে বেঘোরে মরছে সারমেয়র দল। পশু প্রেমীদের বক্তব্য, স্বভাবিকভাবেই মানুষ বুঝতে পারছে সময়ের দাবি মেনে উন্নত হচ্ছে দেশ ও সাথে নিজ এলাকা। কিন্তু কুকুরেরা তো আর এসবে অভ্যস্ত নয় তাই তাদের এই করুন দশা।


ডুয়ার্সের বুক চিড়ে চলা এই জাতীয় সড়ক উত্তর পূর্ব ভারতের সাথে সড়ক পথে যোগাযোগের এক মাত্র প্রধান মাধ্যম। তাই প্রতিদিন প্রচুর পরিমানে গাড়ি চলে এই রাস্তা দিয়েই। এ রাস্তায় চলতে গেলেই চোখে পড়ে গাড়ির চাকায় পিষ্ট হওয়া কুকুরের দেহের অংশ বিশেষ। শুধু পশু প্রেমীরাই নয় কিছু দূর পরপর একই ভাবে নৃশংস ভাবে হত্যা হওয়া এই দৃশ্য দেখে প্রত্যেকেই বিচলিত হচ্ছেন রাস্তার নেড়িদের করুন পরিস্থিতির কথা ভেবে। রাস্তায় নেড়িদের ভয়ংকর এই পরিনতির চিত্র আরও বেশি প্রভাব ফেলছে ছোটো ছেলেমেয়েদের ওপর। বাবা-মায়েরা অস্বস্তি পড়ছেন ছেলেমেয়েদের নিয়ে চলাফেরা করতে। দিনের পর দিন রাস্তায় দূর্ঘটনায় মারা যাওয়া কুকুরের দেহ পরে থাকছে রাস্তাতেই। সরানোও হচ্ছে না দেহ। ফলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এলাকায়। কাক, শকুন জাতীয় প্রাকৃতিক ঝাড়ুদারেরা ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছে এই মর দেহ। রাস্তার পাশে বসবাস করা গৃহস্থের বাড়িতে উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে ফেলছে নোংরা। এই নিয়েও সমস্যায় পড়ছেন এলাকাবাসীরা।


একইভাবে ধূপগুড়ি শহরেও রাস্তা হয়েছে বড়, রাস্তার মাঝে দেওয়া হয়েছে ডিভাইডার। এই রাস্তাতেও একইভাবে মারা পরছে সারমেয়রা। প্রায়শই দেখা যাচ্ছে ধূপগুড়ি শহরে রাস্তার পশুপাখি নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা উই ক্যানের সদস্যরা ছুটছে দুর্ঘটনাগ্রস্ত কুকুরের চিকিৎসার জন্য। সংস্থার অন্যতম সদস্য অবিনাশ পাশওয়ান জানান, প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে এই ধরনের দুর্ঘটনা। আমরা চেষ্টা করছি সাধ্য মত চিকিৎসা করে সুস্থ করে তুলতে। চিকিৎসায় সাহায্য করছেন পশু চিকিৎসক।


অন্যদিকে ধূপগুড়ির পরে শালবাড়িতে নদীর ওপর অবস্থিত সেতু দূর্বল হয়ে পড়ায় গয়েরকাটা হয়ে ঘুরে যাছে বড় গাড়ি গুলো। হটাৎ করে এই রাস্তায় গাড়ি চলাচলের সংখ্যা বাড়ায় এই রাস্তার পাশের নেড়িদেরও একই দশা, মরতে হচ্ছে প্রায় প্রতিদিনই। পথ কুকুরদের বাঁচাতে পশুপ্রেমীরা দাবি তুলেছেন রাস্তার ধারে লাগানো হোক বোর্ড, যেখানে লেখা থাকবে গাড়ি আস্তে চালান কুকুর পারাপারের অধিকার আছে।

আপনার পছন্দ

বিজ্ঞাপন

আরও খবর

বিজ্ঞাপন